ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে জোর দেয়া হচ্ছে মশক নিধনে। তবে অর্থাভাবে মশক নিধন ব্যাহত হচ্ছে নাটোরে। বিশেষ করে জেলার কোনো কোনো পৌরসভা উদ্যোগী হয়েও বাজেট সংকটে মশক নিধন কার্যক্রম চালু রাখতে পারছে না। এতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরে গতকাল পর্যন্ত ১৬ জনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। প্রাণঘাতী এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশা দমনের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে জেলায় ডেঙ্গু রোগের বিস্তার বাড়তে থাকলেও মশক নিধন চলছে ঢিমেতালে। দু-একটি পৌরসভা মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করলেও অর্থাভাবে কয়েক দিন পর তা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো পৌরসভা মশক নিধন কার্যক্রম শুরুই করেনি।
সূত্র জানায়, মশক নিধনে সরকারি কোনো বরাদ্দ বা প্রকল্প না থাকায় পৌর পরিষদের অর্থ খরচ করতে চান না মেয়ররা। মশক নিধন কার্যক্রমে তাদের খুব একটা আগ্রহও নেই। কোনো কোনো এলাকায় মশক নিধনের জন্য ফগার মেশিন কেনা হলেও তা প্যাকেটজাত অবস্থায় নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত ২৫ জুলাই সিংড়া পৌর শহরে মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস শহরের কোয়ার্টারপাড়া, পাড়াজয়নগর, গোডাউনপাড়া, মাদারীপুর, চাঁদপুর ও দমদমাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সপ্তাহব্যাপী এ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু অর্থ সংকটে তা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
এ বিষয়ে সিংড়ার পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমার পৌরসভায় সাতটি ফগার মেশিন ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে তিনটি ভালো রয়েছে। সেগুলো দিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ মেশিন খুব ব্যয়বহুল। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এত পরিমাণ টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য পৌর পরিষদের নেই। তিনি বলেন, সরকারিভাবে কোনো প্রকল্প দেয়া হলে প্রতি বছরই মশক নিধন করা সম্ভব হবে, তাছাড়া সম্ভব নয়।
জেলার আট পৌর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় নাটোর পৌর এলাকা। তবে ডেঙ্গু নিয়ে সারা দেশে হইচই পড়লেও এ পৌর এলাকায় মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। তবে মেয়রের দাবি, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। একই অবস্থা জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, বনপাড়া, গোপালপুর, বাগাতিপাড়া ও নলডাঙ্গা পৌর এলাকার।
এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি বলেন, মশক নিধনের জন্য ফগার মেশিন আগে থেকেই নষ্ট। তাই দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি স্প্রে মেশিন দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মশক নিধনে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। যেহেতু সরকারি কোনো বরাদ্দ থাকে না, সে কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো সম্ভব হয় না। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া হলে এ সমস্যা থাকবে না।
গুরুদাসপুর পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা বলেন, আমার পৌরসভায় মাত্র দুটি ফগার মেশিন রয়েছে। দুটি মেশিন দিয়ে আমরা মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করব। তবে কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকার কারণে আমরা মশক নিধন করতে পারি না।
এদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়তে থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউপি চেয়ারম্যান ওমর আলী প্রধান। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হবে।
সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বানু বলেন, মশক নিধনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফগার মেশিন কিনে মশক নিধন শুরু করতে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।