১৫ অক্টোবর ২০২০ ‘গ্রামীণ নারী দিবস’ উপলক্ষে নিজেরা করি ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে ‘অর্থনীতিতে প্রান্তিক গ্রামীণ নারীদের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আলোচকদের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে এ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হলো
দেওয়ান হানিফ মাহমুদ
সম্পাদক
বণিক বার্তা
গ্রামীণ নারী দিবস সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এটি বিশেষ একটি দিন। গ্রামীণ অর্থনীতি, গ্রামীণ রূপান্তর প্রভৃতি বিষয়ে আমরা বরাবরই বিশেষভাবে আগ্রহী। এজন্য এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন ও নিবন্ধ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে বণিক বার্তা। বণিক বার্তার ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা এবার বণিক বার্তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যাও করছি গ্রামীণ পরিবর্তন নিয়ে। কৃষি, অকৃষি, অবকাঠামো ও সামাজিক খাতে গত ৫০ বছরে গ্রামে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো নিয়েই চার পর্বের আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা সাজিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা দুটি সংখ্যা (কৃষি ও অকৃষি খাত) প্রকাশ করেছি। এসব সংখ্যা করতে গিয়েই আমরা দেখেছি, গ্রামীণ এ রূপান্তর যাত্রায় বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছেন গ্রামীণ নারীরা, বিশেষ করে প্রান্তিক নারীরা। আমন্ত্রিত আলোচকরা নিশ্চয়ই বিষয়গুলো ধরে ধরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবেন। এটি বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে এজন্য যে একেক জায়গায় নারীদের সংগ্রাম ও সম্পৃক্ততার ধরন একেক রকম। উপকূলীয় অঞ্চলে নারীদের সংগ্রাম এক রকম, উত্তরাঞ্চলে আরেক রকম। পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের সংগ্রাম আবার আরেক রকম। এসব জায়গায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষি খাতে তাদের অংশগ্রহণ, অকৃষি খাতে তাদের অংশগ্রহণে প্রভূত ভিন্নতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা লক্ষণীয়। বর্তমানে গ্রামীণ প্রান্তিক নারীর একটা অংশ দেশের বাইরেও কাজে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন ছাড়া, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বাইরের শ্রমবাজারে তাদের যুক্ত হওয়া নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্কও আছে। এটি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয়ই বলবেন। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, একটি বিশেষ দিনকে সামনে রেখে নিজেরা করি এবং অন্যরা মিলে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সাধুবাদ প্রাপ্য। মিডিয়া সহযোগী হিসেবে থাকতে পেরে আমরাও গর্বিত। ভবিষ্যতে এ দিনকে ঘিরে আরো বড় পরিসরে আলোচনার উদ্যোগ আশা করি। কারণ বাংলাদেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষ গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বসবাস করে। এখানে অংশগ্রহণ ও বঞ্চনার জায়গাগুলো যেমন অনেক সুনির্দিষ্ট, তেমনি অনেক বেশি কাজ করার সুযোগও এখানে আছে। সেসব ক্ষেত্র নিয়ে যত আলোচনা হবে, যত সচেতনতা সৃষ্টি হবে, ততই আসলে অর্থনীতিতে কাজের সুযোগ বাড়বে।
খুশি কবীর
সমন্বয়কারী
নিজেরা করি
অনেকেই জানে না যে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ অক্টোবর গ্রামীণ নারী দিবস। জাতিসংঘের দুটি সংস্থা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। একটি হলো ইউএন উইমেন এবং আরেকটি হলো আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা)। তারা দিবসটিকে বড় পরিসরে পালন করে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাসের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলেও দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এ ঘাটতি দূর করতে হবে। আবার নারীরা যে এখন অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন, সে সম্পর্কেও আমাদের খুব একটা ধারণা নেই। সুতরাং সচেতনতা বাড়াতেই বেইজিং সম্মেলনের পরে এসব বিষয়ে আরো বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে এবং গ্রামীণ নারী দিবসের বিষয়টি সামনে এসেছে।
আমরা জানি যে পুরো বিশ্ব জনসংখ্যার (৭০০ কোটি) প্রায় চার ভাগের এক ভাগ গ্রামীণ নারী। তার মানে ২৫ শতাংশ গ্রামীণ নারী। এর অর্থ হলো, এখনো নারীরা গ্রামে বেশি বাস করছেন এবং কাজও করছেন সেখানে। গ্রামে তারা কৃষক হিসেবে, কৃষি শ্রমিক হিসেবে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে, পাশাপাশি গৃহ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। তবে বিভিন্নভাবে কাজ করলেও ভূমিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ খুবই কম। মোট ভূমি মালিকানায় নারীদের অংশ ২০ শতাংশেরও কম। আবার গ্রামীণ কৃষিতে যেসব নারী কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তাদের সঙ্গে পুরুষের মজুরিতে বিরাট ব্যবধান আছে। এটি দূর করতে হবে।
এসডিজিতে বলা হয়েছে, শ্রমবাজারে নারীদের ব্যবধান আরো ২৫ শতাংশ কমানো গেলে আমাদের জিডিপি ৪ শতাংশের মতো বেড়ে যেতে পারে। নারীদের উৎপাদন যন্ত্রের মালিকানা, শিক্ষা, বাজারে অভিগম্যতা থাকলে কৃষি উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ানো সম্ভব। তেমনটি হলে ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক কমে যাবে, যা এসডিজির অন্যতম অভীষ্ট।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো কভিড-১৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকার স্থায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের মতো করে এক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছি। এরই মধ্যে আমরা কিছু সেমিনার আয়োজন করেছি আর গ্রামীণ নারীদের নিয়ে কিছু কাজ শুরু করেছি। তারই একটি অংশ আজকের এ আয়োজন। আজকে আমরা বিষয় নির্ধারণ করেছি অর্থনীতিতে প্রান্তিক গ্রামীণ নারীর ভূমিকা। আমরা গ্রামীণ নারীদের কথা বলছি, কিন্তু আমার মনে হয় প্রান্তিক নারীদের ভূমিকা আমাদের আরো বেশি বোঝা দরকার। এজন্য গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক জীবন হোক, গ্রামীণ নারীর কাজের ব্যাপার হোক, শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয় হোক, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে আসতে চেয়েছি যেন আরো বড় পরিসরে কাজ করা যায়, আমাদের বোঝাপড়া যেন আরো শাণিত হয়। আমরা মনে করি, গ্রামীণ নারীর বিষয়টি অবশ্যই সামনের কাতারে নিয়ে আসতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে গ্রামের প্রান্তিক নারীদের কথা ভুললে চলবে না।
অঞ্জলি দাশ
প্রান্তিক নারী
ডুমুরিয়া, খুলনা
আমি একজন কৃষি শ্রমিক। নিজের কোনো বসতবাড়ি নেই। পরের জমি বর্গায় চাষ করে জীবিকার সংস্থান করি। যে মজুরিতে আমরা কাজ করি, তাতে আমাদের সংসার চলে না। তার পরও কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়। তদুপরি নিজের সংসারেও কাজ করি। কিন্তু এর কোনো আর্থিক মূল্য পাই না, কষ্টের কোনো মূল্যায়ন পাই না। অন্যদিকে পরের জমিতে কাজ করলেও বেতনটা ঠিকমতো পাই না। নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করলে পুরুষকে দেয়া হয় ৩০০ টাকা আর নারীকে দেয়া হয় ২০০ টাকা। কাজ কিন্তু সমানই হয়। আমরা যে কৃষিকাজ করি, তার স্বীকৃতিটাও পাই না। এর একটা সমাধান জরুরি।
অঞ্জলি মিঞ্জির
প্রান্তিক নারী
পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর রংপুর
আমি বারো মাস কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। কর্মক্ষেত্রে আমরা মজুরিবৈষম্যের শিকার। পুরুষদের মজুরি বেশি, আমাদের কম। বর্ণ ও আচরণগত বৈষম্যও রয়েছে। আদিবাসী হওয়ায় আমাদের ছেলেমেয়ে স্কুলে নানাভাবে হেনস্তা হয়। এজন্য আমরা ভূমিহীন সমিতি গঠন করেছি এসব বৈষম্যের প্রতিবাদ করার জন্য। করোনার ছয় মাস আমাদের অনেক কষ্টে গেছে। অন্যরা পেয়েছে ১০ কেজি চাল। আমরা পেয়েছি একটি মিষ্টি কুমড়া ও একটি সাবান। আমাদের দিকে সরকার তাকিয়েই দেখেনি। করোনার সময় অন্যরা কাজ না করলেও আমরা মাঠে থেকেছি, কাজ করেছি। কাজ না করে আমরা থাকতে পারি না। বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হয়। অথচ আমাদের দিকে কেউ তাকায় না। থানা-পুলিশের কাছে, চেয়ারম্যান-মেম্বরের কাছে এবং বিচার ব্যবস্থায়ও আমরা বঞ্চনার শিকার। বয়স্ক ভাতাসহ ভিজিডি, ভিজিএফ, রেশন কার্ড এসবে আমাদের অন্তর্ভুক্তি নেই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, উপোস থেকে আমরা কাজ করি। এভাবে আর চলতে পারে না। আমরা খাদ্য চাই, শিক্ষা চাই, বাসস্থান চাই। সর্বোপরি এ দেশের মানুষ হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা চাই।
মাহমুদা বেগম
মাছচাষী
পাঁচগাছী, রংপুর
দেশে অনেক খাসজমি আছে। এ-সংক্রান্ত নীতিমালা আছে। কিন্তু খাসজমি যারা পাওয়ার যোগ্য, তারা পাচ্ছে না। অনেক সচ্ছল লোক, বড় লোক এখনো খাসজমি দখল করে আছে। এটি নিয়ে আমরা এসিল্যান্ড অফিসে গিয়েছি। দরখাস্ত জমা দিয়েছি। কৃষক দিন দিন কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমার কথাই বলা যাক। কৃষি উৎপাদন করে আমি কোনো লাভ পাই না। কোম্পানিগুলো যে বীজ দেয় তা দিয়ে ধান উৎপাদন করতে হয়। আগে আমরা বীজ নিজেরাই সংরক্ষণ করতাম। তা দিয়ে চাষাবাদ করতাম। কত সুন্দর ফসল হতো! সারও দেয়া লাগত না, কীটনাশকেরও প্রয়োজন পড়ত না। আজকে বন্ধ্যা বীজের জন্য যা দাম দাবি করে বাধ্য হয়ে সেই দামে কেনা লাগে। সেটি দিয়ে উৎপাদন করি, দ্বিতীয়বারের জন্য ওই বীজ রাখতে পারি না। কীটনাশক, বাজারি বীজ এসে আমাদের দেশী মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পোকামাকড়, পশু-পাখি, পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। সকালে উঠে পাখির কলকাকলি শোনার দিন আর নেই। এগুলো দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন মানুষের কত ধরনের রোগবালাই হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। সরকারের কাছে আবেদন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক না দিয়ে কীভাবে উৎপাদন করা যায়, তার ব্যবস্থা করা। কোম্পানিগুলো যেভাবে এগোচ্ছে তাতে কৃষিজমি দিন দিন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমি পরের হাতে চলে যাচ্ছে। নিজেদের জমিতে কী চাষ করব তার সিদ্ধান্তও আমরা নিতে পারি না। কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়। তারা এসে বলে, গম চাষ করো, ভুট্টা আবাদ করো, সয়াবিন চাষ করো, তুলা চাষ করো। কৃষিকাজে এখন প্রচুর খরচ। কৃষি উৎপাদনে আগের মতো লাভ নেই। যতই কোটিপতি হোক গোলায় ধান ওঠে না। বেড়ে চলা খরচ মেটাতে জমি বন্ধক দিতে হয়, উচ্চসুদে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়, ঋণগ্রস্ত হতে হয়। কেউ কেউ ঋণের দায়ে ঢাকায় চলে যায়। এত কষ্টের পরও আমরা কৃষির হাল ধরে রেখেছি। জমিতে সারা দিন কাজ করে বাড়ির রান্নাবান্না ও স্বামী-সন্তান সামলাতে হয়। স্বামী একটি কাজ করলেই তার পরিচয় কৃষক। আর দশ ধরনের কাজ করলেও আমাদের কাজের স্বীকৃতি নেই। সরকারও কোনো কার্ড দেয় না যে আমরা নারী কৃষক। এখনো আমাদের পরিচয় গৃহিণী। নারীদের আমরা কৃষক হিসেবে মর্যাদা চাই।
শেফালী বেগম
কৃষি শ্রমিক
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল
নারীর কাজের মূল্যায়ন নেই। আমি চাই সরকার এমন কিছু আইন করুক, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাজের মূল্যের সমান মর্যাদা থাকে। জমির মালিকানায়ও নারীরা বঞ্চনার শিকার। কৃষক ধানের দাম পান না। নারী কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা আরো বেশি। আজকে কৃষক নিচের দিকে ধাবিত। এ অবস্থায় কৃষকের হাল ধরে রাখা কঠিন। আমরা কোনোমতে কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বেশি দিন টিকে থাকা মুশকিল। কৃষির প্রতি কৃষকের উৎসাহ ধরে রাখতে সরকারের সঠিক নীতিসহায়তা জরুরি।
সালেহা আক্তার
চান্দিনা, কুমিল্লা
আমি কৃষিকাজ করি। স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে কৃষিকাজে নিযুক্ত হয়েছি। নিজের আয়ে কষ্টেসৃষ্টে সন্তানদের বড় করছি। কিন্তু সমান কাজ করলেও মজুরি পুরুষের চেয়ে কম পাই। আমার দাবি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সমান মজুরি নিশ্চিত করা হোক। আমাদের ঘর নেই। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিক সরকার। অনেক বছর ধরে বর্গাচাষ করলেও আমি সরকারের কাছ থেকে কোনো উপকরণ সহায়তা কিংবা সেবা পাই না। একটা কৃষি কার্ডও নেই যে তা দিয়ে কৃষিঋণ পাই। সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়ার অনুরোধ জানাই।
শামসুল হুদা
নির্বাহী পরিচালক এএলআরডি
২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘের ঘোষণায় ‘পারিবারিক কৃষির’ দশক পালিত হচ্ছে। এ পারিবারিক কৃষিতে মূলত প্রান্তিক, ক্ষুদ্র কৃষকদের কথাই বলা হচ্ছে। তাদের অনেকেই বর্গাচাষী হিসেবেও কাজ করেন। তাদের সামান্য কিছু জমি আছে কিংবা কোনো জমিই নেই। আজকের আলোচনায় কৃষি মজুরির বিষয়টিও উঠে এসেছে। কৃষি মজুরিতে নারীদের প্রতি যে বৈষম্য, সেটিও বহুকাল থেকে চলে আসছে। এখনো বহাল আছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যানুযায়ী বিশ্বের খাদ্য চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ পারিবারিক কৃষি থেকে মেটে। অর্থাৎ প্রান্তিক কৃষকরা জোগান দেন। কৃষক বলতে নারী-পুরুষ উভয়কেই বোঝাচ্ছি। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, কৃষিতে নারীর অবদান ৬৭ শতাংশেরও বেশি। আর গৃহে তাদের অবদান প্রায় শতভাগ। সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে নারীর অবদান ৭৫ শতাংশের কম হবে না। কারণ গৃহের যে কাজ তারও একটা অর্থমূল্য আছে; যদিও তার অর্থমূল্য আমরা কখনো হিসাব করি না। উল্টোদিকে তাদের কাজের স্বীকৃতি, মূল্যায়ন, মর্যাদা ও অধিকারের ক্ষেত্রে বড় রকমের ফাঁক রয়ে গেছে। নারীদের কাজ মূল্যায়িত না হওয়ার পেছনে দুটো কারণ বিদ্যমান। এক. প্রান্তিক নারীরা সংগঠিত নন। তাদের সংগঠিত করতে হবে। দুই. নীতি, আইন ও আমাদের সামাজিক প্রথা নারীবান্ধব নয়। আমাদের শাসন ব্যবস্থার দর্শন সম্পূর্ণ পুরুষতান্ত্রিক। যদিও আমাদের নারী প্রধানমন্ত্রী, নারী স্পিকার ও উঁচু পদে আরো অনেকেই আছেন। নারীদের এগিয়ে নিতে হলে তাদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।