আগামী চার বছরের জন্য পরিবার নিয়ে কে উঠছেন হোয়াইট হাউজে? এর উত্তর মিলবে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে। কিন্তু তার আগেই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব জোরালো হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের জয় নিয়ে সন্দেহ ও উত্কণ্ঠা বেড়ে চলেছে তার নিজ দলের ভেতরেও। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
বৈশ্বিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে সম্ভাবনার দিক থেকে অনেকেরই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে এগিয়ে রাখার তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে দেয়া বিশ্লেষণধর্মী এমন সব পূর্বাভাস শতভাগ এড়িয়ে যাওয়া যেমন যাবে না, তেমনি পুরোপুরি আমলে নেয়াও ঠিক হবে না। কারণ গতবারের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে নিয়েও এমন উচ্ছ্বাস ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা ট্রাম্পই পরেছিলেন। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মজার বিষয় হলো কেবল রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, খোদ রিপাবলিকানদেরও অনেকে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমন একজন হলেন রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর জয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন টেক্সাসের এ জুনিয়র সিনেটর।
সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টেড ক্রুজ বলেন, আমি মনে করি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। আমি মনে করি আমরা হোয়াইট হাউজ এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে চলেছি, যা হবে রিপাবলিকানদের জন্য রক্তস্নানের সমার্থক। আমি বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। এটি খুবই উদ্বেগের। অথচ এ রিপাবলিকান সিনেটর কিছুদিন আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
টেড ক্রুজের পাশাপাশি তার সহকর্মী শীর্ষ রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের মুখেও শোনা গেছে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনার কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীদের অন্যতম থম টিলিস। যিনি উত্তর ক্যারোলাইনার সিনেটর পদে পুনরায় নির্বাচনের জন্য কঠোর লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে তিনি ডেমোক্রেটিক প্রতিযোগী ক্যাল কানিংহামের বিপক্ষে বিতর্কে অংশ নেন।
এ সময় তার বক্তব্যেও ট্রাম্পের পরাজয়ের জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।
কেবল টেড ক্রুজ কিংবা থম টিলিসই নন, আরো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সিনেটর ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বজায় চলছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার নীতির জন্য সিনেটররা দূরত্ব বজায় রাখছেন, যা রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ পর্যায়ে ক্রমে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একঘেয়েমির কারণে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন দারুণ একটি জয় পেতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর কয়েকদিন বাকি। এ সময় রিপাবলিকান মিত্রদের ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করার কথা। কিন্তু মিত্রদেরই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা নির্বাচনে ট্রাম্প শিবিরের দুর্বলতার চিত্র ক্রমে স্পষ্টতর করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের অসন্তুষ্টি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব রিপাবলিকান সিনেটর নির্বাচনী দৌড়ে নিজেরা চাপে রয়েছেন, তারা ক্রমে ট্রাম্পের জয় নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠছেন। তবে কভিড-১৯ মহামারী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসমুক্ত কিনা, হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ট্রাম্পের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ানোর ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক। ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনা সংক্রমণের বিষয়টি এভাবেই ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শনিবার হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক শন কনলি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে আসার সব শর্ত পূরণ করেছেন। করোনা সংক্রমণ নিয়ে হোয়াইট হাউজের অস্পষ্ট বক্তব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের হিসাব-নিকাশ ক্রমেই জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন রিপাবলিকানরা।
১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা শেষ হয়ে আসছে।