বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
গতকাল বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বলেন, মিন্নির জামিন আবেদন কেন মঞ্জুর করা হবে না, সে মর্মে আদালত সরকারের প্রতি রুল জারি করতে পারেন। বিচারাধীন মামলার এ পর্যায়ে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন না।
আদালতের বক্তব্য শোনার পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে আবেদন ফিরিয়ে নেন মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না।
শুনানির শুরুতে জেডআই খান পান্না জামিন দেয়ার পক্ষে আদালতের সামনে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি শুরু করেন।
পান্নার সঙ্গে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও জামিউল হক ফয়সাল। অন্যদিকে মোমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম।
শুনানিতে মোমতাজ উদ্দিন ফকির মিন্নির জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে এ মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে সেলফোনে মিন্নির কথোপকথনের রেকর্ড, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ভিডিও, রিফাত শরীফের আগে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের কাবিননামা এবং মিন্নিসহ অন্য আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আমলে নিয়ে বরগুনার আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আমি মনে করি, জামিন নামঞ্জুর হওয়ার জন্য এ চারটি বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, মিন্নির প্রেম ও বিয়ের কথা বলা হলেও কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি হলো সেটি বলা হয়নি।
এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নি ও অন্য আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপি চান। জবাবে জেডআই খান পান্না বলেন, জবানবন্দির কপি তাদের হাতে নেই, তাদের তা দেয়া হয়নি। আদালত এ ব্যাপারে রুল দিতে চাইলে আইনজীবী পান্না রুল নয়, জামিন চান। আদালত জবানবন্দির কপি দাখিল ছাড়া জামিন হবে না জানিয়ে দিলে তিনি আদালতের কাছে জামিন আবেদন ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলেন।
মিন্নির স্বামী রিফাতকে গত ২৬ জুন বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলায় প্রধান সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। কিন্তু কিছুদিন পরই মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
রিমান্ডে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও এরই মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।