কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং অঞ্চলটিকে ভেঙে দুই টুকরো করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে পাকিস্তান ও চীন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এরই মধ্যে বিষয়টিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ সেনাপতিদের মধ্যেও একটি বৈঠক হয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রতিবেশী চীনও। খবর এএফপি।
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলে মঙ্গলবার জোর গলায় ঘোষণা দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দেশটিতে মুসলিমবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিকে শীর্ষ সেনাপতিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে কাশ্মীরিদের পাশে শক্ত অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে কাশ্মীরের বৌদ্ধ অধ্যুষিত লাদাখ অঞ্চলকে আলাদা করে কেন্দ্রের অধীনে নেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা জানিয়ে বক্তব্য রেখেছে বেইজিংও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িং বলেছেন, ভারত একতরফাভাবে নিজের আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের অবমাননা করেছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকা নিয়ে ভারতের বিরোধ রয়েছে।
অন্যদিকে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে দেশটির শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছে ১৯৮৯ সাল থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে এখানে নতুন করে গোলযোগের আশঙ্কা তৈরি করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেন, এ ঘোষণার পর কাশ্মীরে ‘শান্তি ও স্বাভাবিকতা’ বজায় রয়েছে। এবং সেখানে কোনো ধরনের গণবিক্ষোভ দেখা দেয়নি।
কিন্তু মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরকে বর্তমানে বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ফলে সেখানকার প্রকৃত খবর বাইরে আসার সুযোগ কম।
অজিত দোভালের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পাওয়া গেছে শ্রীনগর থেকে নয়াদিল্লি আগত এক পর্যটকের বক্তব্যে। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, সোমবার থেকেই সেখানে থেমে থেমে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
ওই পর্যটক আরো জানান, সেখানে রাতের বেলা সৈন্যদের চিত্কার-চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছেন তিনি। ধরতে গেলে প্রায় প্রতি পাঁচ কদমে একদল করে সৈন্য মোতায়েন করা রয়েছে সেখানে।
তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর পর্যন্ত যাওয়ার পথে আমার গাড়িতে কমপক্ষে ২৫ বার তল্লাশি হয়েছে। এবং আধা ঘণ্টার পথ আমাকে পাড়ি দিতে হয়েছে প্রায় ৪ ঘণ্টায়।’
অন্যদিকে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন পার করছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। রাজা আকিল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অদূর ভবিষ্যতে এখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না।