রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় গত তিনদিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে আসছে। তবে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রোগী। গত তিনদিনের ব্যবধানে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩১৩ জন কমেছে, আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এ সংখ্যা বেড়েছে ৩৬৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট ঢাকার ৪০টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩৮৯। পরদিন এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৪০। আর গতকাল ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল ৫ হাজার ৭৬ জন। অন্যদিকে, ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোয় ৭ আগস্ট ৩ হাজার ৩১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল, যা ৮ আগস্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬২৫ জনে। গতকাল এ সংখ্যা আরো বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৭। এ নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৬৩ জন।
কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার দুজন। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতে মোট ৯৪৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪। ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৪২৩ জন্য ভর্তি হয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। আর সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর ৮০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজে, ৫৩ জন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে, ৮৬ জন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে, ১০৩ জন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৩৮ জন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে, ৬৩ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে, ৪৭ জন ঢাকা শিশু হাসপাতালে, ৩৬ জন বিএসএমএমইউতে, ১৪ জন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ও চারজন বিজিবি হাসপাতালে রয়েছেন। বর্তমানে সব মিলিয়ে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬১৩ জন।
রাজধানী ছাড়া ঢাকা বিভাগে গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৩৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৩, খুলনায় ১৪৯, রংপুরে ৭৫, রাজশাহীতে ১০৪, বরিশালে ১৬৭, সিলেটে ২৯ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছেন ২৭ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে ঢাকায়ই ২০ হাজার ৪৭৮ জন রোগী। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। যদিও বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটা আরো বেশি।