ফেনীর জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্র : নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পরও শেষ হয়নি নির্মাণ

নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফেনী শহরের সুলতানপুরে জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে সাকল্যে শতকরা ৬০ ভাগ। কবে নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী পৌরসভার সুলতানপুরে ৭০ শতাংশ জমিতে নির্মাণ হচ্ছে দেশের তৃতীয় জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্র। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদের প্রচেষ্টায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর আগে দুটি জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ করা হয় ময়মনসিংহ ও কক্সবাজারে।

ফেনীতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৭ টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৮ সালের ১ আগস্ট প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়। পরে ওই বছরের ৭ অক্টোবর তৃতীয় এ জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পৌর মেয়র হাজি আলাউদ্দিন। কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় গত ১ মে পর্যন্ত। কাজটি বাস্তবায়ন করছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) ও ফেনী পৌরসভা।

পৌরসভার সূত্র জানায়, বর্তমানে ফেনী পৌর এলাকা থেকে দৈনিক কমপক্ষে ১২০ টন আবর্জনা দেওয়ানগঞ্জে নিয়ে ফেলা হয়। এ হিসেবে পৌরসভা প্রতি মাসে ৩ হাজার ৬০০ টন আবর্জনা অপসারণ করে। এ জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্রে ১১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ১৯টি হাউজে এসব আবর্জনা রিসাইকেল করে জৈবসার উৎপাদন করা হবে। তৈরি হবে বায়োগ্যাসও।

সূত্র আরো জানায়, সংগৃহীত বর্জ্য স্বয়ংক্রিয় মেশিনে প্রাথমিক পর্যায়ে পৃথক করা হবে। তাছাড়া এ কাজে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে চেষ্টা করা হবে। তারা সচেতনভাবে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করে রাখলে কাজের সুবিধা হবে। এভাবে ফেনী পৌরসভার প্রতিদিনের বর্জ্য থেকে দৈনিক ৯৬ টন জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা বছরে উত্পদন হবে ৩৪ হাজার ৫৬০ টন। ফলে এ প্রকল্প থেকে ফেনী পৌরসভা বছরে অন্তত ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আয় করতে পারবে।

ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, জৈবসার উৎপাদনকেন্দ্রটি চালু হলে শহরে আবর্জনা দ্রুত সময়ে অপসারণ করা সম্ভব হবে। এতে শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে। পৌরবাসীও স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারবে।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দাতা সংস্থা আন্তরিক। এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ে পুরো কাজ শেষ হবে।

আরও