নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এরাবিয়ান সল্ট নামের একটি খাবারের লবণ কারখানা থেকে ৭৫০ বস্তা (৩৭ টন) ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ জব্দ করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বন্দর থানার আলীনগরে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে এসব ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ জব্দ করা হয়। এ সময় এরাবিয়ান সল্টের মালিক কামরুজ্জামান কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বন্দরের ফরাজিকান্দা এলাকার নূর হোসেন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে তার বাবার দাবি, এসব লবণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট নয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল আলীনগর এলাকায় এরাবিয়ান সল্ট কারখানায় খাবার লবণের নামে দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করে আসছিলেন। গোপন সূত্রে এ ব্যাপারে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ওই কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৭৫০ বস্তা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট জব্দ করা হয়। এ সময় কারখানার মালিক কামরুজ্জামানকেও গ্রেফতার করা হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খাবার লবণের নামে ওই কারখানার মালিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করে আসছে। এটি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে। আসামি কামরুজ্জামানকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কামরুজ্জামানের বাবা হাজি নূর হোসেন মিয়া বলেন, আমরা সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছি। জব্দকৃত লবণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট নয়। এ লবণ খাবারের উপযোগী। পুলিশ পরীক্ষা না করেই আমার ছেলেকে গ্রেফতার করেছে।
প্রসঙ্গত, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট শিল্পে ব্যবহার হয়। এটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।